চামড়ার ন্যায্য মূল্য, উলামায়ে কেরামের সম্মান ও দায়িত্বশীলতার বিষয়ে ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্য কী আদৌ বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
এবারের ঈদুল আযহায় বাংলাদেশের কুরবানির চামড়া প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় সারাদেশে ব্যাপক হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে কুরবানির চামড়া মাদরাসা, এতিমখানা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো। চামড়ার বাজারে অস্থিরতা, সিন্ডিকেট, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব এবং সরকারের পর্যাপ্ত উদ্যোগের ঘাটতির কারণে এ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে উলামায়ে ইসলাম চামড়া না তোলার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা কেবল একটি প্রতিবাদ নয়; বরং এটি একটি সতর্কবার্তা। দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার অবহেলা করলে তারা একসময় বাধ্য হয়ে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ধর্ম মন্ত্রীর মহোদয় তার বক্তব্যে এই বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেছেন। তবে আমার মনে হয় ধর্ম মন্ত্রনালয় পূর্ব থেকে বিষয়টি নিয়ে গভীর নযরিয়া না রাখা অবশ্যই দুঃখজনক।
কারণ, উলামায়ে কেরাম শুধু ধর্মীয় নেতা নন; তারা সমাজের নৈতিক দিশারি। তাদের কষ্ট, তাদের সংগ্রাম এবং দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার লড়াইকে সম্মান করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
চামড়ার সঠিক মূল্য না পাওয়া মানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়।
এটি একটি বৃহৎ দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থার উপর আঘাত। হাজারো গরীব ছাত্র, এতিম ও হাফেজে কুরআন তৈরির পেছনে এই চামড়ার অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ তাদের এই ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত না করে উল্টো তাদের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
উলামায়ে কেরামের কষ্টের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি। তাদের সিদ্ধান্তের পেছনের বাস্তবতা বুঝতে হবে। সরকারের উচিত-
চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা
বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙা
মাদরাসাগুলোর জন্য বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা
উলামায়ে কেরামের সঙ্গে সম্মানজনক সংলাপ করা
সবশেষে বলা যায়, একটি দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন করে কখনো স্থিতিশীল সমাজ গঠন সম্ভব নয়। উলামায়ে কেরামকে সম্মান দেওয়া মানেই দ্বীনকে সম্মান করা, আর দ্বীনকে সম্মান করা মানেই সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হক কথা বুঝার ও বলার তাওফিক দান করুন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন